দৈনিক সংলাপ বিশেষ প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে তিতাস গ্যাসের ৪ ইঞ্চি ব্যাসের ১০০০ পিএসআইজি হাই প্রেসার (উচ্চচাপ) লাইন থেকে অবৈধভাবে গ্যাস সংযোগ নিয়ে চুন তৈরির কারখানা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে একটি চক্রের বিরুদ্ধে। অতিরিক্ত প্রেসারের কারণে সংযোগস্থল থেকে তীব্র গ্যাস লিকেজ শুরু হলে পুরো এলাকায় ভয়াবহ দুর্ঘটনার আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বিপুল পরিমাণ জাতীয় সম্পদ গ্যাসের অপচয় ঘটে।
ঘটনার বিবরণী থেকে জানা যায়, পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে গত ৩ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কটিয়াদী উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট লাবনী আক্তার তারানার নেতৃত্বে একটি যৌথ মোবাইল কোর্ট পরিচালিত হয়। উক্ত অভিযানে তিতাস গ্যাস আঞ্চলিক বিপণন অফিস (জোবিঅ)-কিশোরগঞ্জ, ময়মনসিংহ আঞ্চলিক অপারেশন বিভাগ এবং আঞ্চলিক প্রশাসন ও লিগ্যাল বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন। মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঘটনাস্থল থেকে অবৈধ গ্যাস সংযোগে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম ও আলামত জব্দ করা হয়।
পরবর্তীতে এ ঘটনায় তিতাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ দায়ের করা হলে ৪ আগস্ট ২০২৬ তারিখে কটিয়াদী থানায় ‘বাংলাদেশ গ্যাস আইন-২০১০’ অনুযায়ী একটি মামলা রুজু করা হয়। মামলার ভিত্তিতে কটিয়াদী থানা পুলিশ অভিযান চালিয়ে সংশ্লিষ্ট চুন কারখানার দুই জমির মালিককে গ্রেপ্তার করেছে।
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন— কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার কাজিরচর এলাকার মৃত আসাদুজ্জামান আসাদ আকন্দের ছেলে মোঃ সুলতান উদ্দিন আকন্দ (জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৪৮১৪৫৭৬১১৯৯৮০) এবং একই এলাকার মো: রেজাউল করিমের ছেলে মোঃ সুমন মিয়া (জাতীয় পরিচয়পত্র নং- ৪৮১৪৫৭৬১২০০৭৯)।
কটিয়াদী থানা সূত্রে জানা গেছে, ঘটনার পর থেকে চুন ভাট্টির মূল মালিক পলাতক রয়েছেন এবং তাকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।
এদিকে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষের জরুরি টেকনিক্যাল টিম টানা প্রচেষ্টার পর গত ৫ আগস্ট ২০২৬ তারিখে ঝুঁকিপূর্ণ লিকেজটি সফলভাবে মেরামত করে। বর্তমানে উক্ত এলাকায় গ্যাস সরবরাহ সম্পূর্ণ স্বাভাবিক ও নিরাপদ রয়েছে বলে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ নিশ্চিত করেছে।



