দৈনিক সংলাপ প্রতিবেদ
টানা দেড় মাসেরও বেশি সময় তীব্র গ্যাস সংকটে ভোগার পর অবশেষে জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বাড়ায় দেশের জ্বালানি খাতে কিছুটা স্বস্তি ফিরতে শুরু করেছে। সরকারের নানামুখী উদ্যোগ ও এলএনজি সরবরাহ বৃদ্ধির ফলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক গ্যাস সরবরাহ প্রায় ২৬২ কোটি ঘনফুটে পৌঁছেছে। এর ইতিবাচক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে দেশের প্রধান প্রধান শিল্পাঞ্চলসহ সাধারণ গ্রাহক পর্যায়ে।
পেট্রোবাংলার তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা মোট ২৬২ কোটি ঘনফুট গ্যাসের মধ্যে দেশীয় উৎস থেকে আসছে প্রায় ১৬২ কোটি ঘনফুট এবং এলএনজি থেকে যোগ হচ্ছে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট। ১৫ সেপ্টেম্বর রাত থেকে এলএনজি সরবরাহ বাড়ানোর পর মাত্র দুই দিনের ব্যবধানে জাতীয় গ্রিডের সার্বিক পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি ঘটে।
গ্যাসের চাপ বাড়ায় সাভার, আশুলিয়া, চট্টগ্রাম ও নরসিংদীর শিল্প-কারখানাগুলোতে উৎপাদন কার্যক্রম আবারও গতি পেতে শুরু করেছে। পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকার সিএনজি ফিলিং স্টেশন এবং আবাসিক লাইনেও গ্যাসের চাপ আগের তুলনায় কিছুটা বেড়েছে।
তবে অঞ্চলভেদে গ্যাস সরবরাহের পরিস্থিতিতে এখনও বৈচিত্র্য রয়ে গেছে। বিশেষ করে গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলগুলোতে গ্যাস সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় সেখানকার কারখানাগুলোতে উৎপাদন পুরোপুরি গতি পেতে আরও সময় লাগবে।
জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্টদের মতে, জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ বৃদ্ধি সাময়িক স্বস্তি দিলেও দীর্ঘমেয়াদে শিল্প ও আবাসিক খাতে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সুনিশ্চিত করতে দেশীয় উৎপাদন বৃদ্ধি, এলএনজি আমদানি ও সঞ্চালন ব্যবস্থাপনার মধ্যে সমন্বয় আরও জোরদার করা প্রয়োজন। বর্তমান সরবরাহ বৃদ্ধি দেশের দীর্ঘদিনের ঘাটতি পুরোপুরি মেটাতে না পারলেও শিল্প খাতের স্থবিরতা কাটাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে।



