বিশেষ প্রতিবেদক
বর্তমান বিশ্বে যুদ্ধ-বিগ্রহের কারণে সৃষ্টি হওয়া চরম মানবিক বিপর্যয়ের পাশাপাশি জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহ রূপ মানবজাতির অস্তিত্বকে এক অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বেড়ে যাওয়ার ফলে তীব্র লবণাক্ততা উপকূলীয় অঞ্চলের উর্বর কৃষিজমিকে প্রতিনিয়ত গ্রাস করছে। অন্যদিকে, পার্বত্য অঞ্চলে ঘন ঘন ভূমিধস, অতিবৃষ্টি, অকাল বন্যা এবং খরার মতো চরম প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকরা হারাচ্ছে সর্বস্ব। ফলে দেখা দিচ্ছে তীব্র খাদ্য সংকট, যা বৈশ্বিক খাদ্য নিরাপত্তাকে এক চরম হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে। কেবল প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন দিয়ে এই পরিস্থিতি সামাল দেওয়া সম্ভব নয়; প্রয়োজন বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক সদিচ্ছা, সমন্বিত ব্যবস্থাপনা এবং টেকসই সচেতনতা।
জলবায়ু সংকট আজ আর কোনো নির্দিষ্ট সীমানায় আবদ্ধ নয়। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত আজ জলবায়ুর বিভিন্নমুখী আঘাতে জর্জরিত।
- উপকূলীয় সংকট ও লবণাক্ততা: বাংলাদেশ, মালদ্বীপ ও ভিয়েতনামের মেকং বদ্বীপের মতো নিচু এলাকাগুলোতে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধির ফলে নদীর পানিতে লবণাক্ততা মারাত্মকভাবে বেড়ে গেছে। ফলশ্রুত, শত শত একর কৃষিজমি অনাবাদী হয়ে পড়ছে এবং দেখা দিচ্ছে সুপেয় পানির তীব্র সংকট।
- পার্বত্য অঞ্চলে বিপর্যয়: হিমালয় ও আন্দিজ পর্বতমালা সংলগ্ন এলাকাগুলোতে তাপমাত্রার তারতম্যের কারণে অকালে হিমবাহ গলছে। এর ফলে পাহাড়ি এলাকায় আকস্মিক বন্যা, ভূমিধস ও পাহাড় ধসের ঘটনা আগের চেয়ে কয়েকগুণ বেড়েছে।
- খাদ্য নিরাপত্তার হুমকি: আফ্রিকার সাব-সাহারান অঞ্চল এবং এশিয়ার বিস্তীর্ণ অংশের কৃষিখাত অকাল বৃষ্টি ও খরার কারণে বিপর্যয়ের মুখে। জলবায়ুর এই অস্থির আচরণের দরুন গমের উৎপাদন হ্রাস পাওয়া, ধান চাষ ব্যাহত হওয়া এবং পশুপালনের চারণভূমি নষ্ট হওয়া সার্বিক বৈশ্বিক খাদ্য শৃঙ্খলকে ভেঙে ফেলছে।
দুর্যোগ ও জলবায়ু ব্যবস্থাপনায় বিভিন্ন দেশের কৌশল ও শিক্ষা
জলবায়ুর এই বহুমুখী সংকট মোকাবিলায় বিশ্বজুড়ে কিছু দেশ নিজস্ব জলবায়ু ও ভৌগোলিক বাস্তবতা বিবেচনা করে উদ্ভাবনী ও টেকসই সমাধান বাস্তবায়ন করছে। এসব দেশের ব্যবস্থাপনা কৌশল অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশের জন্য এক অনন্য দৃষ্টান্ত হতে পারে।



