বিশেষ প্রতিবেদক:
দেশের অর্থনীতিকে সচল ও গতিশীল রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা অনুযায়ী কার্যকর ও যুগোপযোগী নানা পদক্ষেপ হাতে নিয়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংক। বিশেষ করে বকেয়া ঋণ আদায়, অকার্যকর ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ, নতুন করে ঋণ বিতরণ এবং গ্রাহকসেবার মানোন্নয়নের মাধ্যমে সার্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থায় বড় ধরনের অগ্রগতি অর্জিত হয়েছে। ব্যাংকের সার্বিক অবস্থার এই ইতিবাচক পরিবর্তন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে দৈনিক সংলাপের সাথে খোলামেলা কথা বলেছেন অগ্রণী ব্যাংকের উপ-মহাব্যবস্থাপক (ডিএমডি) আবুল বাশার।
ব্যাংকের ভবিষ্যৎ ও অগ্রগতি বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএমডি আবুল বাশার দৈনিক সংলাপকে বলেন, “অগ্রণী ব্যাংক একটি সরকারি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংক। আমরা মনে করি জনগণের এখনো সরকারি ব্যাংকের প্রতি আস্থা অবিচল রয়েছে। আমরা সেই আস্থাকে সম্মান জানিয়ে ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টাকে কাজে লাগিয়ে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। আশা করি আগামী দিনে ব্যাংকটির আরও বৈপ্লবিক উন্নয়ন আপনাদের চোখে পড়বে।”
তিনি আরও জানান, ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) সুদূরপ্রসারী দিকনির্দেশনা ও সরাসরি সমন্বয়ে পুরো ব্যাংকিং কার্যক্রমে একটি গতিশীল পরিবেশ তৈরি হয়েছে। ব্যাংকটির দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ কার্যকর ভূমিকা রাখছে:
আশানুরূপ ঋণ আদায় ও পুনঃতফসিল: খেলাপি ও অকার্যকর ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ এবং দ্রুত নতুন ঋণ আদায়ের ক্ষেত্রে ব্যাংকটি গ্রাহকদের কাছ থেকে আশানুরূপ ও ইতিবাচক সাড়া পাচ্ছে।যেখানে বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী চলতি বছরের জুন শেষে দেশের ব্যাংকিং খাতে মোট ঋণের স্থিতি দাঁড়িয়েছে ১৮ লাখ ৫০ হাজার ৪৭৬ কোটি টাকা এবং এর মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৬ লাখ ৬ হাজার ৫৫৫ কোটি টাকা (যা মোট ঋণের ৩২.৭৮ শতাংশ বা প্রতি ১০০ টাকার ঋণে প্রায় ৩৩ টাকা ৭৮ পয়সা খেলাপি, যার সিংহভাগই আদায় অযোগ্য; উল্লেখ্য, চলতি বছরের মার্চ শেষে খেলাপি ঋণ ছিল ৫ লাখ ৮৮ হাজার ৭০৪ কোটি টাকা)— এমন এক চ্যালেঞ্জিং প্রেক্ষাপটে অগ্রণী ব্যাংক তাদের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়েছে।
গ্রাহকসেবায় কঠোর অবস্থান ও প্রশাসনিক পরিবর্তন: যেসব শাখায় সাধারণ গ্রাহকদের হয়রানি বা শাখা ব্যবস্থাপকদের অসহযোগিতার অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। অদক্ষদের সরিয়ে সেসব জায়গায় নতুন ও অত্যন্ত অভিজ্ঞ ম্যানেজারদের পদায়ন করা হচ্ছে।
লোকসানি শাখার লাভজনক ধারায় প্রত্যাবর্তন: সঠিক দিকনির্দেশনা ও অভিজ্ঞ নেতৃত্বের ফলে অতীতে যে সমস্ত শাখা লোকসানের মুখে পড়েছিল, সেগুলো এখন ধীরে ধীরে লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছে।
আবুল বাশারের মাঠপর্যায়ের দূরদর্শী নেতৃত্ব, তদারকি এবং সুদৃঢ় পরিচালনায় ব্যাংকটির সেবা কার্যক্রম আগের চেয়ে অনেক বেশি গ্রাহকবান্ধব ও গতিশীল হয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সরকারি নির্দেশনা পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন এবং অগ্রণী ব্যাংকের শীর্ষ নেতৃত্বের যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত ও কার্যকর পদক্ষেপের বলেই রাষ্ট্রায়ত্ত এই ব্যাংকটি আজ পুনরুদ্ধারের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাস, বর্তমানের এই গতিশীল ধারা অব্যাহত থাকলে অগ্রণী ব্যাংক খুব দ্রুতই দেশের ব্যাংকিং খাতে একটি শক্ত ও অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।জানাযায় ,মো. আবুল বাশার। তিনি ১৯৯৩ সালে সিনিয়র অফিসার হিসেবে অগ্রণী ব্যাংকে কর্মজীবন শুরু করেন। কর্মজীবনের শুরুতে তিনি আর্থিক খাত সংস্কার প্রকল্পে (FSRP) গবেষণা সহযোগী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি ব্যাংকটির বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ করপোরেট শাখার শাখা প্রধান, বিভাগীয় প্রধান এবং সার্কেল প্রধান হিসেবে সততা, দক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তিনি মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে অবস্থিত অগ্রণী ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান অগ্রণী রেমিট্যান্স হাউসের সিইও হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
তিনি অগ্রণী ব্যাংকসহ অন্যান্য ব্যাংকের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ, কর্মশালায় বৈদেশিক বাণিজ্য বিষয়ে গেস্ট স্পিকার হিসেবে সেশন পরিচালনা করে থাকেন। পেশাগত প্রয়োজনে জনাব বাশার দেশে, বিদেশে বিভিন্ন সেমিনার এবং প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণ করেন। তিনি মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, সৌদি আরব, থাইল্যান্ড, ইন্দোনেশিয়া, জাপান, ভারত, নেপালসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণ করেন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করেন।



