Trending Now

বেনেজুয়েলার ‘গ্রেপ্তারকৃত ভবিষ্যৎ’: সংঘাত আর অনিশ্চয়তার দোলাচলে লাতিন আমেরিকা

Date:

সংলাপ ডেস্ক

লাতিন আমেরিকার একসময়ের সমৃদ্ধ দেশ বেনেজুয়েলা আজ এক চরম রাজনৈতিক ও মানবিক সংকটের আবর্তে বন্দি। বিতর্কিত নির্বাচন, বিরোধী নেতা-কর্মীদের গণ-গ্রেপ্তার এবং অর্থনৈতিক ধসের ফলে দেশটির ভবিষ্যৎ এখন আক্ষরিক অর্থেই ‘কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে’ আটকা পড়েছে। সম্প্রতি বিরোধী শিবিরের একাধিক শীর্ষ নেতাকে গ্রেপ্তারের পর এই প্রশ্নটিই বড় হয়ে দেখা দিয়েছে—বেনেজুয়েলা কি গণতন্ত্রের পথে ফিরবে, নাকি এক দীর্ঘস্থায়ী একনায়কতন্ত্রের কবলে হারিয়ে যাবে? গত বছরের জুলাইয়ে অনুষ্ঠিত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের ফলাফল ঘিরে উত্তাল হয়ে ওঠে বেনেজুয়েলা। বর্তমান প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো নিজেকে বিজয়ী ঘোষণা করলেও বিরোধীরা একে ‘ইতিহাসের সবচেয়ে বড় কারচুপি’ হিসেবে আখ্যা দেয়। তাদের দাবি, বিপুল ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিরোধী নেতা এডমুন্ডো গঞ্জালেস। নির্বাচনের পর থেকেই শুরু হয় নজিরবিহীন দমনপীড়ন। রাজপথে নামা হাজার হাজার সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়, যাদের বড় একটি অংশই তরুণ প্রজন্ম—যাদের বলা হচ্ছে বেনেজুয়েলার ‘ভবিষ্যৎ’।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, কয়েক হাজার রাজনৈতিক কর্মীকে বর্তমানে কোনো ধরনের বিচার ছাড়াই কারারুদ্ধ করে রাখা হয়েছে। বিরোধী জোটের মূল চালিকাশক্তি মারিয়া করিনা মাচাদোকে অবরুদ্ধ করে রাখা এবং তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের একের পর এক গ্রেপ্তার দেশটির গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পুরোপুরি স্থবির করে দিয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, মেধাবী তরুণদের দেশত্যাগ এবং রাজনৈতিক সক্রিয়তার কারণে জেলে যাওয়ার ফলে বেনেজুয়েলা এক ভয়াবহ ‘মেধা পাচার’ ও ‘নেতৃত্বের শূন্যতা’র মুখোমুখি।

একদিকে রাজনৈতিক অস্থিরতা, অন্যদিকে আকাশচুম্বী মুদ্রাস্ফীতি বেনেজুয়েলাকে পঙ্গু করে দিয়েছে। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যার এক-চতুর্থাংশেরও বেশি মানুষ দেশ ছেড়ে বিদেশে পাড়ি জমিয়েছেন। যারা দেশে আছেন, তাদের বড় একটি অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছেন। আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা এবং তেলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় সাধারণ মানুষের জীবন এখন দুর্বিষহ।

যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলো বেনেজুয়েলার এই রাজনৈতিক দমনপীড়নের কঠোর নিন্দা জানিয়েছে। অনেক দেশই মাদুরো সরকারকে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তবে চীন ও রাশিয়ার জোরালো সমর্থনে মাদুরো এখনো ক্ষমতা ধরে রেখেছেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, বিরোধী কণ্ঠস্বর দমানোর এই সংস্কৃতি বেনেজুয়েলার আগামী কয়েক দশকের ভবিষ্যৎকে অন্ধকার করে দিচ্ছে।

বেনেজুয়েলার এই সংকট কেবল একটি দেশের অভ্যন্তরে সীমাবদ্ধ নেই, এটি পুরো লাতিন আমেরিকার স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাজনৈতিক বন্দিদের মুক্তি এবং একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত বেনেজুয়েলার ‘গ্রেপ্তারকৃত ভবিষ্যৎ’ মুক্ত হওয়ার কোনো লক্ষণ আপাতত দেখা যাচ্ছে না। সাধারণ মানুষের প্রশ্ন—কারাগারের তালা ভেঙে গণতন্ত্র কি আবারও কারাকাসের রাস্তায় ফিরতে পারবে?

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Share post:

Subscribe

spot_imgspot_img

Popular

More like this
Related

ডিএমপিতে রদবদল: দুই অতিরিক্ত কমিশনারকে নতুন দায়িত্ব

বিশেষ প্রতিনিধি, দৈনিক সংলাপ: ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শীর্ষ...

পূর্বধলায় বিশ্ব শিক্ষক দিবস পালিত: মর্যাদা ও অধিকার রক্ষার তাগিদ

​পূর্বধলা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: ‘শিক্ষকের পাশে দাঁড়াই, পেশার মর্যাদা রক্ষা করি,...

টেকনাফ সীমান্তে বিজিবি ও এসআরবি’র যৌথ অভিযানে ৩ লাখ ৯০ হাজার ইয়াবা জব্দ, আটক ১

টেকনাফ সীমান্তে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও এসআরবি’র যৌথ...

চাঁদাবাজির অভিযোগে খিলক্ষেত থানা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি গ্রেফতার

বিশেষ প্রতিবেদক, দৈনিক সংলাপ চাঁদাবাজি ও দখলদারির সুনির্দিষ্ট অভিযোগে...